আইকোনিক ফোকাস ডেস্কঃ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বিচার কক্ষে সাংবাদিকদের ঢুকতে না দেওয়া সংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে মনে করেন সাংবাদিক নেতারা। তাই অবিলম্বে বিচার কক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তারা বলেছেন, যদি তা না করা হয়, তবে স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে নিয়ে যৌথ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সুপ্রিম কোর্ট বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সাংবাদিক নেতারা এ কথা বলেন। বুধবার (১২ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
গত ৭ জানুয়ারি থেকে আপিল বিভাগসহ হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি স্বাধীন সাংবাদিকতাকে যেমন বাধাগ্রস্ত করছে, তেমনি স্বাধীন-উন্মুক্ত বিচার ব্যবস্থাকেও করছে প্রশ্নবিদ্ধ।
তাছাড়া এই পরিস্থিতি জনগণের তথ্য জানার অধিকারকেও খর্ব করছে।
অবস্থান কর্মসূচিতে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, একটি রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এ সময়ে আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণকে জানানোর কথা। অথচ বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব জনগণকে তথ্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার যখন আদালত বা বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, তখন সংবাদমাধ্যম বিচার বিভাগের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এখন সেই সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের বাধার মুখে পড়ছে।
নূরুল কবীর বলেন, প্রকাশ্য বা উন্মুক্ত আদালতে বিচার পরিচালনায় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধান প্রদত্ত অধিকার রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, সেই বিচার বিভাগই যদি মানুষের তথ্য জানার অধিকার ক্ষুণ্ণ করে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক।
এ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ চেয়েও পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের ভুল হতে পারে।
বিচারকরাও ভুল করেন বলেই বিচার ব্যবস্থায় আপিলের সুযোগ রয়েছে। তেমনি গণমাধ্যমের ভুল হলেও তা সংশোধনের সুযোগও রয়েছে। কিন্তু বিচার বিভাগের অভিভাবকেরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস একটি সিদ্ধান্ত বহাল রাখবেন, এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
অবস্থান কর্মসূচিতে সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন সভাপতি শাফি উদ্দীন আহমদ, রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি সভাপতি কাজী জেবেলসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার আরাফাত মুন্না।