বস যদি হয় মহিলা

আইকোনিক ফোকাস ডেস্কঃ মহিলাদের সহকর্মী হিসেবে ভালো লাগলেও, বস হিসেবে পছন্দ করেন না অনেকেই। নিজের যোগ্যতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতার পরীক্ষা পুরুষদের থেকে অনেক বেশি দিতে হয় মহিলাদের। তাই মহিলা বস হিসেবে সুষ্ঠুভাবে অফিস চালাতে আপনার জন্য বিশেষ কিছু উপায় বলে দিচ্ছেন রবিউল কমল-

 

রিক্তাকে অফিসের সবাই একটু ভয় পায়। কারণ রিক্তা হলো তার অফিসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান রিক্তা, বয়স মাত্র সাতাশ বছর। তাই বাবা-মারা যাওয়ার পরে রিক্তাকেই এই পারিবারিক ব্যবসায়ের হাল ধরতে হয়েছে। তবে তার অফিসে অধিকাংশ স্টাফ পুরুষ হওয়ায় মাঝে মাঝে বেশ অসুবিধায় পড়তে হয় তাকে। তার অফিসের বয়স্ক পুরুষরা তাকে বস হিসেবে মানলেও, অনেক সময় তাদের সিদ্ধান্তগুলো রিক্তার ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। আর অল্পবয়সী রিক্তাকে অনেক সহযোগিতা করেন। তবে তারা রিক্তার যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ করেন। এছাড়া অফিসে বেশ কয়েকজন মহিলা স্টাফও আছেন। এসব মহিলা স্টাফরা আবার রিক্তাকে হিংসা করেন। তারা রিক্তার সাথে নিজেদের যথাযথভাবে মানিয়ে নিতে চান না। তাই মহিলা বস হিসেবে অফিস চালানোটা রিক্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

বস হিসেবে আপনার করণীয়:
আপনার প্রথম কাজ হলো অফিসের সমস্ত কাজগুলো সবার মাঝে ভাগ করে দিন। এবার নিজেই এসব কাজের তদারকি করুন। সবার কাজকে সম্মানের সাথে মূল্যায়ন করুন। কেউ ভালো কাজ করলে তার কাজের স্বীকৃতি দিন। আবার কেউ যদি কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আপনার কাছে আসে, তবে বিরক্ত হবেন না। বরং হাসিমুখে তা সমাধান করে দিন।

 

যেহেতু আপনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন, তাই শুরুতেই অফিসের সামগ্রিক পরিস্থিতি ভালো করে বুঝে নিন। যতোই ব্যস্ত থাকুন না কেন সবার সাথে যোগাযোগ রেখে চলুন। মাঝে মাঝে সবাইকে নিয়ে মিটিংয়ের আয়োজন করুন। সেখানে সবাইকে প্রশ্ন বা মন্তব্য করার সুযোগ দিন। তাহলে এ আলোচনা থেকে মূল্যবান মতামতও পেতে পারেন।

 

নিজে কোনো সমস্যায় পড়লে ভেঙে পড়বেন না। অফিসে যারা অভিজ্ঞ আছে তাদের সমস্যার কথা খুলে বলুন। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিন। তরুণ স্টাফদের সাথেও শেয়ার করতে পারেন। কারণ তরুণদের কাছ থেকেও অনেক সৃজনশীল আইডিয়া আসে। তবে সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কারো দ্বারা সম্পূর্ণভাবে প্রভাবিত না হওয়াই ভালো। এ ব্যাপারে নিজের ওপর আস্থা রাখুন। তবে আপনার সিদ্ধান্ত অবশ্যই অফিসের সবাইকে জানাবেন। তাহলে অফিস পরিচালনা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে।

 

অফিসের সবার কাজ আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। তাই কারো কাজ নিয়ে আপনার অসুবিধা হলে তার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করুন। অন্যের দ্বারস্থ না হয়ে নিজেই তার সম্পর্কে জানুন। হয়তো কোনো ভুল ধারণা থেকে আপনি তাকে ভুল বুঝছেন। এমনও হতে পারে তার কোনো পারিবারিক সমস্যার কারণে সে কাজে মনোযোগী হতে পারছে না। তাই তার সমস্যাটা সবার আগে জানার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে তা সমাধানের চেষ্টা করুন। তাহলে অফিসের কাজেও কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।

 

আপনার ব্যক্তিত্ব, ডিসিপ্লিন, নিরপেক্ষতা এবং কাজের প্রতি শ্রদ্ধা দেখেই তারা আপনাকে নিজেদের নেতা হিসেবে মেনে নেবে। আপনাকে অবশ্যই অফিস পলিটিকস, গসিপ এবং পারস্পরিক হিংসা থেকে দূরে থাকুন। সবাইকে সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করুন। তাহলেই অফিসে আপনি আপনার প্রাপ্ত সম্মান পাবেন।

Leave a Reply

Translate »