আইকোনিক ফোকাস ডেস্কঃ আজ ৫ ফেব্রুয়ারি বলিউড অভিনেতা অভিষেক বচ্চনের ৫০তম জন্মদিন। এই দিনে তাঁকে শুধু বাবা অমিতাভ বচ্চনের ছায়ায় না দেখে বরং নিজের পছন্দ, সিদ্ধান্ত আর দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে তোলা ক্যারিয়ারের আলোকে ফিরে দেখা জরুরি। রাতারাতি সুপারস্টার হয়ে ওঠা নয়, আবার কঠিন সময় এলেই হারিয়ে যাওয়া নয়—অভিষেক বচ্চনের গল্প মূলত টিকে থাকার, নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এবং ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করার গল্প।চলচ্চিত্রের বাইরে খেলাধুলা, ব্যবসা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে অভিষেক বচ্চনের জীবন এখন শুধু একজন অভিনেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর ক্যারিয়ার ও সম্পদের পথচলা বলছে, ধৈর্য ও সময় কীভাবে ধীরে ধীরে বড় সাফল্যে রূপ নেয়।
প্রত্যাশার বোঝা নিয়ে যাত্রা
২০০০ সালে ‘রিফিউজি’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক বচ্চনের অভিষেক। তখন তিনি শুধু একজন নতুন অভিনেতা নন; বরং সুপারস্টারের সন্তান—এই পরিচয়ও তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। ফলে প্রত্যাশার চাপ ছিল আকাশচুম্বী।
শুরুর কয়েক বছর ছিল বেশ অস্থির। কিছু ছবি চলেছে, অনেক ছবিই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। কিন্তু এই সময়েও অভিষেক হাল ছাড়েননি। একের পর এক কাজে নিজেকে ধরে রেখেছেন, শিখেছেন অভিজ্ঞতা থেকে। এই ধৈর্যই পরে তাঁর ক্যারিয়ারের বড় শক্তি হয়ে ওঠে।
মোড় ঘোরানো সময়
অভিষেকের ক্যারিয়ারে বড় মোড় আসে ‘যুবা’ ছবির মাধ্যমে। এরপর ‘ধুম’ সিরিজ তাঁকে বাণিজ্যিক সাফল্য এনে দেয় এবং দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। এখান থেকেই তিনি বুঝতে পারেন, এক ধরনের ইমেজে আটকে না থেকে বৈচিত্র্যের দিকে যাওয়া দরকার।
‘গুরু’, ‘বান্টি অউর বাবলি’, ‘কভি আলবিদা না কহেনা’, ‘দিল্লি সিক্স’–এই ছবিগুলোয় অভিষেক নিজেকে নানা রূপে তুলে ধরেছেন। কখনো ব্যবসায়ী চরিত্র, কখনো প্রেমিক, আবার কখনো জটিল পারিবারিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া মানুষ—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে তিনি নিজেকে পরীক্ষা করেছেন।
নতুন সময়, নতুন মাধ্যম
সম্প্রতি অভিষেক বচ্চন ধীরে ধীরে অনলাইন ধারাবাহিক ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকেও ঝুঁকেছেন। এই সিদ্ধান্ত শুধু ট্রেন্ড অনুসরণ নয়; বরং বাস্তবতা বুঝে নেওয়ার ফল। অনলাইন কনটেন্টে চরিত্রগুলো তুলনামূলক গভীর, গল্পে পরীক্ষা–নিরীক্ষার সুযোগ বেশি।
এই মাধ্যমে কাজ করে অভিষেক প্রমাণ করেছেন, বয়স বা সময় বদলালেও নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখা সম্ভব। এতে তাঁর ক্যারিয়ার যেমন নতুন গতি পেয়েছে, তেমনি আর্থিক দিকেও তা লাভজনক হয়েছে।
আজ অভিষেক বচ্চনের সম্পদের চিত্র
২০২৬ সাল অনুযায়ী অভিষেক বচ্চনের ব্যক্তিগত মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ২৮০ কোটি রুপি। এই অঙ্ক শুধু অভিনয় থেকে নয়; বরং দীর্ঘ সময়ের কাজ, বিভিন্ন আয়ের উৎস ও পরিকল্পিত বিনিয়োগের ফল।
প্রতিটি ছবির জন্য অভিষেক বচ্চন সাধারণত ১০ থেকে ১২ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন। যদিও তিনি প্রতিবছর একাধিক ছবি করেন না, তবু ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও অন্যান্য আয়ের কারণে তাঁর আয় স্থিতিশীল থাকে।
অভিনয়ের বাইরে প্রযোজনা
অভিনয়ের পাশাপাশি অভিষেক বচ্চন প্রযোজনায়ও যুক্ত। তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও কনটেন্ট উন্নয়নে তিনি কাজ করছেন। এতে তাঁর আয়ের আরও একটি ধারা তৈরি হয়েছে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করাও ছিল বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত। এখানে ভালো গল্প, জটিল চরিত্র ও পরীক্ষামূলক কাজের সুযোগ বেশি। এই পথ বেছে নেওয়া তাঁর জন্য সৃজনশীল ও আর্থিক—দুই দিক থেকেই লাভজনক হয়েছে।
বলিউডের বাইরে ব্যবসায়িক উদ্যোগ
অভিষেক বচ্চনের সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো, শুধু সিনেমায় নিজেকে সীমাবদ্ধ না রাখা। তিনি ভারতের ফুটবল লিগের একটি দলের সহ–মালিক। এই দল একাধিকবার শিরোপা জিতেছে এবং ধীরে ধীরে এর মূল্যও বেড়েছে।
এ ছাড়া অভিষেক বচ্চন কাবাডি লিগের একটি দলের সঙ্গেও যুক্ত। এই লিগটিও জনপ্রিয়তা ও দর্শকসংখ্যার দিক থেকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
খেলাধুলার পাশাপাশি অভিষেক বিভিন্ন দেশীয় নতুন উদ্যোগ ও ভোক্তাপণ্য খাতে বিনিয়োগ করেছেন। এসব বিনিয়োগ মূলত দীর্ঘমেয়াদি লাভের দিকে নজর রেখে করা, দ্রুত মুনাফার জন্য নয়।
বাড়িঘর ও স্থাবর সম্পত্তি
অভিষেক বচ্চনের মালিকানায় মুম্বাইয়ের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শহরের দামি এলাকায় ফ্ল্যাট ও আবাসন। পাশাপাশি তিনি দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল ভিলার সঙ্গেও যুক্ত, যা তাঁর সম্পদের বড় অংশজুড়ে আছে।
সংযত জীবনধারা
বিলাসবহুল গাড়ি ও দামি বাড়ি থাকলেও অভিষেক বচ্চন সাধারণত ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে চান না। তবে তিনি কথা না বললেও স্ত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রায়ই নানা ধরনের খবর ছড়ায়। বেশির ভাগ সময়ই তিনি এসব পাত্তা দেন না।
নতুন কাজ
অভিষেক নিজের ক্যারিয়ারে সব সময়ই নানা ধরনের সিনেমা করেছেন। গত বছর তাঁকে যেমন দেখা গেছে বাণিজ্যিক সিনেমা ‘হাউসফুল ৫’–এ; আবার তেমনই করেছেন ‘বি হ্যাপি’, ‘আই ওয়ান্ট টু টক’–এর মতো ব্যতিক্রমী সিনেমা। চলতি বছর তাঁকে শাহরুখ খান অভিনীত ‘কিং’ সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। তাঁর অভিনীত আরেকটি সিনেমা ‘রাজা শিবাজি’ও মুক্তি পাওয়ার কথা।