এ সরকারের অর্জনের চাইতে ঘাটতির পাল্লা ভারী: ইফতেখারুজ্জামান

আইকোনিক ফোকাস ডেস্কঃ অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিবাচক যে অর্জন হয়েছে, তার তুলনায় ঘাটতি বা পথভ্রষ্ট হওয়ার উপাদানের পাল্লাটা তুলনামূলক ভারী বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগের পতনের পরে রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা, সংস্কার ও নির্বাচনের ভিত্তি স্থাপনের যে প্রত্যাশা ও দায়িত্ব ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের, দেড় বছরেও সেসব সম্ভব হয়নি।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ধানমন্ডি মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে যে অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, সেটি আইনগত হোক, সাংবিধানিক হোক বা অন্য মানদণ্ডে-সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক ঝুঁকি আমরা দেখতে পাচ্ছি।সেই অবকাঠামোটিকে দুর্বল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ঝুঁকি প্রতিহত করার মত সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন শাহজাদা এম আকরাম এবং মো. জুলকারনাইন। গবেষণা প্রতিবেদনে বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচন এবং রাষ্ট্র পরিচালনের নিরিখে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সার্বিক পর্যবেক্ষণে চারটি ক্ষেত্রেই সরকারের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ও অর্জন হয়েছে মন্তব্য করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিচার ও নির্বাচনের অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। তবে অবকাঠামো পর্যাপ্ত শক্তিশালী নয় এবং মজবুত নয়।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে যতটুকু মজবুত বা শক্তিশালী হতে পারতো, ততটুকু হয়নি। এর কারণে ভবিষ্যতেও এই ভিত্তিটা আরও দুর্বল এবং আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।তার মতে, রাষ্ট্র সংস্কারের ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব শুরু করা এ সরকার শুরু থেকে সংস্কারকে শুধু সংস্কার হিসেবে দেখেছে, বাস্তবায়নের পথে ঝুঁকিগুলো বিশ্লেষণ করে নিরসনের উপায় অনুসন্ধান করার প্রয়াস দেখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে আমরা মনে করি যে জুলাই সনদ দুর্বল হয়েছে। জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠারকে কেন্দ্র করে যে ধরনের সুপারিশগুলো ছিল বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের, সেই সুপারিশগুলোকে কেন্দ্র করে বড় রাজনৈতিক দলগুলো সকলেরই এক ধরনের অনীহা ছিল। জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে যে গণভোট, সেটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিধা সৃষ্টি হয়েছে।

তবে এ সরকারের নেওয়া উদ্যোগের মধ্যে বিচার বিভাগের সংস্কারকে সর্বোচ্চ হিসেবে দেখছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, মোটাদাগে আগে যেটা আমরা দেখেছি, কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিচার বিভাগের সংস্কারসহ বিশেষ করে মানবতাবিরোধী এবং দুর্নীতি অভিযোগের যে বিচার প্রক্রিয়া রয়েছে বেশ অ্যাগ্রেসিভলি, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত। সেখানে কিছু কিছু সুফল পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু আমরা যেটা লক্ষ্য করেছি, স্বাভাবিকভাবে ধীরগতি এবং প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা। আমি মনে করি যে, বিচার এবং প্রতিশোধ দুটির মধ্যে একধরনের একাকার করে হয়েছে। বাস্তবে বিচার কতটুকু প্রতিশোধ, সেই প্রশ্ন- বিতর্কটা সবসময় থেকে যাবে বলে আমি মনে করছি।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব করলে কঠোর ব্যবস্থা : ইসি সানাউল্লাহ

সুষ্ঠু বা নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি না এমন প্রশ্ন তুলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অর্থ, পেশীশক্তি এবং ধর্ম এই তিনটি শক্তির অপব্যবহার প্রকট দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছে। যার ফলে বাস্তবে সমান প্রতিযোগিতাসহ কতটুকু সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, সেটি আমাদের দেখার বিষয়।

এ সরকার প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপসারণের মাধ্যমে দলীয়করণ মুক্ত করার চেষ্টা করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আগের মনোপলিস্ট বা একটি প্রভাব থেকে বেরিয়ে সেখানে ত্রিমুখী প্রভাব বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Translate »