নেতার বেশে কারাগার থেকে বের হলেন পরীমনি

চিত্রনায়িকা পরীমনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বের হয়েছেন। বের হওয়ার সময় তিনি বেশ উৎফুল্ল ছিলেন। এসময় তাকে সাদা রঙের একটি গাড়িতে করে বের হতে দেখা যায়। তখন তিনি সেলফি তুলেন এবং হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি সাদা টি-শার্ট পরা ছিলেন। তার মাথায় ছিল একটি সাদা পাগড়িও। তখন তার মুখে ছিল হাসি।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে তাকে বহনকারী একটি গাড়ি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে বের হয়ে যায়।

এ সময় উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে সেলফি তুলতেও দেখা যায় পরিমনিকে। কারামুক্তির দিনে তার পরনে সাদা পোশাক ছিল। এ সময় তাকে বেশ উচ্ছ্বল ও হাসিখুশি দেখা যায়।

এদিকে পরীমনি যখন হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান, তখন তার হাতে লেখা ছিল, ‘Dont ও লাভের প্রতীকী চিহ্ন, এরপর me Bitch’। তবে এ লেখার উদ্দেশ্য কি তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এরপর পরীমনিকে বহনকারী গাড়িটি বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে বের হয়ে যায়। প্রায় ২৭ দিন কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি।

তবে উৎসুক জনতা ও তার ভক্তদের ভিরে কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনির গাড়িকে বেশ বেগ পেতে হয়। এসময় সাংবাদিকরা পরিমনিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তার কেমন লাগছে। তবে পরিমনি তার উত্তর দেননি।

জানা গেছে, কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে রাজধানীর যে বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো, বনানীর সেই বাসাতেই যাচ্ছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মুক্তি পাওয়ার পর স্বজন ও আইনজীবীদের সঙ্গে ওই ভাড়া বাসার দিকে রওনা হন।

এর আগে সকাল ৯টা ২১ মিনিটে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর কাছে পরিমনিকে হস্তান্তর করেন কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ। পরে ৯টা ৩৬ মিনিটে কারাগার থেকে বের হন তিনি। তার আগেই পরীমনিকে নিতে কারা ফটকে উপস্থিত ছিলেন তার খালু মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন নিকটাত্মীয় ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী।

এর আগে মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ৪ আগস্ট রাতে প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র‍্যাব। এ সময় পরীমনির বাসায় বিভিন্ন মাদক পাওয়া গেছে বলে জানায় র‍্যাব।

এরপর ৫ আগস্ট র‍্যাব বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরীমনি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদক সেবন করতেন। এমনকি এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন তিনি। এজন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। বাসায় নিয়মিত ‘মদের পার্টি’ করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের সরবরাহ করতেন ও পার্টিতে অংশ নিতেন।

২০১৪ সালে সিনেমায় ক্যারিয়ার শুরু করেন পরীমনি। এ পর্যন্ত তিনি ৩০টি সিনেমা ও বেশ কয়েকটি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন। পিরোজপুরের মেয়ে পরীমনিকে চলচ্চিত্র জগতে নিয়ে আসেন প্রযোজক রাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *