Bangladeshi Entertainment Magazine

অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের সময় যা খাবেন না।

0 73
অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের সময় যা খাবেন না:-

দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে রোগ-বালাই। তাই অন্যান্য ঔষধের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক সেবনও বেড়ে চলেছে। তবে এমন কিছু খাবার আছে যা ঔষধ গ্রহণ করা কালীন গ্রহণ করলে ঔষধের কার্যকারিতা কমে যায়। খাবার ঔষধের সাথে তিনভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় – ঔষধের শোষণে বাঁধার সৃষ্টি করে, শরীরের শোষণের হারকে ধীরগতির করার মাধ্যমে অথবা আপনার শরীর কীভাবে ঔষধটিকে ভাঙছে তাতে হস্তক্ষেপ করার মাধ্যমে। এজন্য চিকিৎসককে ঔষধ গ্রহণের অাগে জিজ্ঞেস করে নিন যে, কোন নির্দিষ্ট খাবারের সাথে কোন ঔষধের প্রতিক্রিয়া কি বা এর কার্যকারিতা কি। তবে সাধারণত যে ধরণের খাবারগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে গ্রহণ করা উচিত নয় সেসব সর্ম্পকে আলোচনা করা হল-

উচ্চমাত্রার ফাইবারযুক্ত খাবার অ্যান্টিবায়োটিকের শোষণকে ধীর গতির করে দেয়। যেমন: মসূরডাল, মটরশুঁটি এবং আস্ত শস্য। আপনি ওজন কমাতে চান বলে কম খাবার গ্রহণ করছেন তা ঠিক আছে, কিন্তু আপনি যখন অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করবেন তখনকার জন্য এই অভ্যাসটি ভাল নয়। এতে রক্তস্রোতে ঔষধের শোষণের হার কমতে থাকে। তাই উচ্চমাত্রার ফাইবারযুক্ত খাবার অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহনকালে এড়িয়ে চলুন।

দুগ্ধ জাতীয় পণ্য (দই ছাড়া) এসময় খাওয়া উচিত নয়। দইয়ের প্রোবায়োটিক অন্ত্রের জন্য উপকারী, অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণকালীন সময়েও। তবে দই ছাড়া অন্য দুগ্ধজাতীয় পণ্য ঔষধের শোষণে বাধা দেয় এগুলোর ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি কারণে। ক্যালসিয়াম এবং আয়রন উভয়ে কুইনোলোন্স নামক অ্যান্টিবায়োটিকের শোষণের ক্ষমতার উপর প্রভাব বিস্তার করে। যদি আপনি ক্যালসিয়াম বা আয়রনের সাপ্লিমেন্ট বা উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম বা আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করেন তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ৩ ঘন্টা আগে তা গ্রহণ করুন।

যেসব খাবার অ্যাসিডিক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহনকালে তা এড়িয়ে চলাই ভালো। যেমন: কার্বোনেটেড পানীয়, সাইট্রাস ফলের জুস, চকলেট এবং টমেটোর কেচাপ। এসময় এসব খাবার আপনার শরীরের ঔষধ শোষণের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করে। জাম্বুরার জুস এবং জাম্বুরার অন্য পণ্য অ্যান্টিবায়োটিক সহ বিভিন্ন ধরণের ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া দেখায়।

এছাড়াও অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের সময় অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা উচিত। যদিও এটি অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতায় হস্তক্ষেপ করেনা, কিন্তু এদের সমন্বয় অস্বস্তিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন- পেটের সমস্যা, মাথা ঘুরানো ইত্যাদি সৃষ্টি করতে পারে বলে জানা গেছে। আপনার ডায়েটে প্রোবায়োটিক যোগ করুন, এটি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ফলে সৃষ্ট ডায়রিয়াকে এড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে। ঔষধ গ্রহণের সময় প্রচুর পানি পান করুন, এটি ঔষধ হজম ও শোষণে সাহায্য করবে।

অ্যান্টিবায়োটিক কখন খাবেন…?

অনেকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে থাকেন। এতে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অনেকে আবার পূর্ণমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন না। আবার সাধারণ জ্বর, কাশিসহ অসুখ হলে কেউ কেউ ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে সেবন করেন। আমাদের দেশে ফার্মেসিতে প্রায় ৯০ ভাগ ওষুধ বিক্রি হয় চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া।

এটা আমাদের দেশে এখন সাধারণ ঘটনা হয়ে গেছে। এই ওষুধ যারা কিনছে, তাদের মধ্যে চিকিৎসাপত্রের বিষয়টিই নেই। অনেক সময় শিশুদের ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে আমরা ধরেই নিই ভাইরাসের কারণে এ সমস্যা হয়েছে। একে আমরা রোটা ভাইরাল ডায়রিয়া বলি। এতে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো প্রয়োজন নেই।

সাধারণ সর্দি-জ্বরের ক্ষেত্রেও অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো প্রয়োজন নেই। তখন হয়তো ফার্মেসিওয়ালা বলছে, আপনি দুটি মেট্রোনিডাজল নিয়ে যান। কিংবা আরও অন্য ওষুধ নিয়ে যান। রোগী কিন্তু খুব খুশি তার সমস্যাটা কমে যাচ্ছে।

এরপর তার আশপাশে যখন অন্যদের এ রকম সমস্যা হচ্ছে, অন্যকেও আবার একইভাবে সে পরামর্শ দিচ্ছে। এভাবে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া ঠিক নয়। যে কোনো সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন, ভালো থাকুন।

Comments
Loading...